০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী উদ্যোক্তার হাত ধরে স্বাবলম্বিতা: লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খামারে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ২৯৩ বার

মাহমুদুর রহমান মনজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম বকুলের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে “মেসার্স সালেহা মৎস্য খামার”, যা আজ একটি সফল ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে খামারটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন তার ছোট ভগ্নিপতি ডা. খোরশেদ আলম। জানা যায়, ২০১৯ সালে সালেহা বেগম বকুলের আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহে দুটি পুকুরে মাছ চাষের মাধ্যমে এই খামারের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি একটি লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগে পরিণত হয়।
বর্তমানে খামারটিতে রুই, কাতলা, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, মৃগেল ও সরপুঁটি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় পুকুরের সংখ্যা বাড়িয়ে এখন মোট চারটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে।
ডা. খোরশেদ আলম জানান, প্রথমদিকে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত মাছ আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করা হতো। পরবর্তীতে বাজারজাত শুরু করলে আয় বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাছ বিক্রি করে প্রায় ২২ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে মাছের খাদ্য, মোটর স্থাপন, শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন এবং আধুনিক অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন খামারটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সমস্যায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
খামারের সাফল্যের পেছনে নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম বকুলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই এই সফলতার মূল শক্তি। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত খামারের পরিচর্যা করা হচ্ছে। বাজারের দামী খাদ্যের পরিবর্তে নিজস্বভাবে নির্ভেজাল ও হালাল উপাদান দিয়ে মাছের খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা ব্যয় কমাতে সহায়ক।
ভবিষ্যতে আরও পুকুর ও জলাশয় যুক্ত করে খামারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নারী উদ্যোক্তার হাত ধরে স্বাবলম্বিতা: লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খামারে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

আপডেট টাইম : ১১:৪০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মাহমুদুর রহমান মনজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম বকুলের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে “মেসার্স সালেহা মৎস্য খামার”, যা আজ একটি সফল ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে খামারটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন তার ছোট ভগ্নিপতি ডা. খোরশেদ আলম। জানা যায়, ২০১৯ সালে সালেহা বেগম বকুলের আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহে দুটি পুকুরে মাছ চাষের মাধ্যমে এই খামারের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি একটি লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগে পরিণত হয়।
বর্তমানে খামারটিতে রুই, কাতলা, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, মৃগেল ও সরপুঁটি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় পুকুরের সংখ্যা বাড়িয়ে এখন মোট চারটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে।
ডা. খোরশেদ আলম জানান, প্রথমদিকে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত মাছ আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করা হতো। পরবর্তীতে বাজারজাত শুরু করলে আয় বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাছ বিক্রি করে প্রায় ২২ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে মাছের খাদ্য, মোটর স্থাপন, শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন এবং আধুনিক অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন খামারটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সমস্যায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
খামারের সাফল্যের পেছনে নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম বকুলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই এই সফলতার মূল শক্তি। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত খামারের পরিচর্যা করা হচ্ছে। বাজারের দামী খাদ্যের পরিবর্তে নিজস্বভাবে নির্ভেজাল ও হালাল উপাদান দিয়ে মাছের খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা ব্যয় কমাতে সহায়ক।
ভবিষ্যতে আরও পুকুর ও জলাশয় যুক্ত করে খামারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব।