সোহেল রানা,ভ্রাম্যমাণ,প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোরে,পেট্রোল-ডিজেলের তীব্র সংকট এবং আলুর বস্তা নিয়ে গড়ে ওঠা বেপরোয়া সিন্ডিকেটের কারণে বিপাকে পড়েছেন হাজারো আলু চাষি। জ্বালানি তেলের অভাবে আলু পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বস্তা সংকটে অনেক কৃষক পানির দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, হিমাগার কর্তৃপক্ষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আলুর বাজার ও বস্তার দাম নিয়ে ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলছেন। অন্যদিকে, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় খেত থেকে আলু বহনের গাড়িগুলো অলস বসে আছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ট্রলি চালক খাইরুল জানান, দুই দিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তিনি চাহিদা মতো ডিজেল পাননি। পরে বাড়তি দামে খুচরা দোকান থেকে তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। তেল সংকটে সময়মতো আলু হিমাগারে পৌঁছাতে না পারায় শ্রমিকের খরচ ও সময় দুই-ই নষ্ট হচ্ছে।
তানোর পৌর সদরের চাষি ইউসুফ জানান, বস্তা না পাওয়ায় তার ৬৮ বিঘা জমির অর্ধেক আলু এখনো তোলা সম্ভব হয়নি। গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৮০ টাকা, এবার তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় ঠেকছে। চোরখৈর গ্রামের আতাউর রহমান জানান, বস্তা সংকটের কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আলু নিতে চাচ্ছেন না, ফলে বৃষ্টির ভয়ে বাড়ির আঙিনায় আলুর স্তূপ করে রাখছেন তিনি।
রহমান কোল্ডস্টোরেজের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হালিম বস্তা সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, গতবারের তুলনায় এবার উৎপাদন কম হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে চাষিদের দাবি, স্টোর মালিকরাই সিন্ডিকেট করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, পাটের দাম বাড়ায় জুট মিলগুলো এবার বস্তা কম উৎপাদন করেছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খাঁন জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। দ্রুতই বস্তা ব্যবসায়ীদের ডেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 



















