০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আশার আলো ‘ব্রি ধান-১০৫’: নবীনগরে বাড়ছে চাষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) সম্পন্ন বিশেষ ধানের জাত ‘ব্রি ধান-১০৫’, যা স্থানীয়ভাবে ‘ডায়াবেটিক ধান’ নামে পরিচিত। গত দুই বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে এ ধানের চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এই ধান আবাদ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ফসল কর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত এই ধানের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৫, যা সাধারণ চালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করতে দেয় না এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নবীনগর উপজেলার কৃষক খাতুনে জান্নাত সায়েমা জানান, এই ধানের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ধানের পরিবর্তে সরাসরি চাল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে ভোক্তারা সহজে এই স্বাস্থ্যসম্মত চাল সংগ্রহ করতে পারেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক কৃষক এই ধান চাষ করছেন এবং আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাইনবোর্ড ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে চাল বিক্রির তথ্য জানানো হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এ ধরনের কম GI সম্পন্ন খাদ্যশস্যের চাহিদা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ‘ব্রি ধান-১০৫’ হতে পারে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প, যা কৃষক ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই উপকারী

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আশার আলো ‘ব্রি ধান-১০৫’: নবীনগরে বাড়ছে চাষ

আপডেট টাইম : ০৮:২৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) সম্পন্ন বিশেষ ধানের জাত ‘ব্রি ধান-১০৫’, যা স্থানীয়ভাবে ‘ডায়াবেটিক ধান’ নামে পরিচিত। গত দুই বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে এ ধানের চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এই ধান আবাদ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ফসল কর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত এই ধানের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৫, যা সাধারণ চালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করতে দেয় না এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নবীনগর উপজেলার কৃষক খাতুনে জান্নাত সায়েমা জানান, এই ধানের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ধানের পরিবর্তে সরাসরি চাল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে ভোক্তারা সহজে এই স্বাস্থ্যসম্মত চাল সংগ্রহ করতে পারেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক কৃষক এই ধান চাষ করছেন এবং আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাইনবোর্ড ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে চাল বিক্রির তথ্য জানানো হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এ ধরনের কম GI সম্পন্ন খাদ্যশস্যের চাহিদা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ‘ব্রি ধান-১০৫’ হতে পারে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প, যা কৃষক ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই উপকারী