০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলনগরে বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে যুবককে অপহরণ: অমানবিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় সিলেট থেকে আসা এক যুবককে বন্ধুত্বের ছলে ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে তিন দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের পর স্থানীয় জনতার সহায়তায় দুই অভিযুক্তকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী যুবক মো. রাসেল জানান, অভিযুক্ত মো. সোহেল ও কামালের সাথে কাজের সূত্রে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তাকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কমলনগরে আসতে বলা হয়। গত তিন দিন আগে রাসেল সিলেট থেকে কমলনগরে আসলে সোহেল ও কামাল তাকে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজার সংলগ্ন একটি নতুন বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে দুই দিন এবং পরবর্তীতে সদর উপজেলার মনির মাঝির বাড়িতে ১ দিন আটকে রাখা হয়।
​নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি:
রাসেলের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে ১৯,২০০ টাকা কেড়ে নেয় এবং আরও ৫০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে তার ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। তিন দিন যাবত তাকে খাবার না দিয়ে আটকে রাখা হয়। রাসেল বলেন, “আমি নিরুপায় হয়ে বাড়িতে যোগাযোগ করি, কিন্তু আমার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় টাকা দিতে অসমর্থ হয়। তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল।”
​উদ্ধার অভিযান:
টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা রাসেলকে নিয়ে কৌশলে আলতার বাপের গঞ্জ এলাকায় আসে। সেখানে একটি দোকানে সুযোগ বুঝে রাসেল স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি খুলে বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও বাজারের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সোহেল ও কামালকে আটক করে।
​থানায় সোপর্দ:
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও তাওহিদী জনতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ভুক্তভোগী রাসেলসহ আটককৃত দুই অভিযুক্তকে কমলনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
​অভিযুক্তদের বক্তব্য:
আটককৃত সোহেল ও কামাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেলের সাথে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়া বা নির্যাতনের বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য প্রদান করেছে।
​পুলিশের পদক্ষেপ:
কমলনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্তরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

কমলনগরে বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে যুবককে অপহরণ: অমানবিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০২:০৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় সিলেট থেকে আসা এক যুবককে বন্ধুত্বের ছলে ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে তিন দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের পর স্থানীয় জনতার সহায়তায় দুই অভিযুক্তকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী যুবক মো. রাসেল জানান, অভিযুক্ত মো. সোহেল ও কামালের সাথে কাজের সূত্রে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তাকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কমলনগরে আসতে বলা হয়। গত তিন দিন আগে রাসেল সিলেট থেকে কমলনগরে আসলে সোহেল ও কামাল তাকে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজার সংলগ্ন একটি নতুন বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে দুই দিন এবং পরবর্তীতে সদর উপজেলার মনির মাঝির বাড়িতে ১ দিন আটকে রাখা হয়।
​নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি:
রাসেলের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে ১৯,২০০ টাকা কেড়ে নেয় এবং আরও ৫০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে তার ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। তিন দিন যাবত তাকে খাবার না দিয়ে আটকে রাখা হয়। রাসেল বলেন, “আমি নিরুপায় হয়ে বাড়িতে যোগাযোগ করি, কিন্তু আমার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় টাকা দিতে অসমর্থ হয়। তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল।”
​উদ্ধার অভিযান:
টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা রাসেলকে নিয়ে কৌশলে আলতার বাপের গঞ্জ এলাকায় আসে। সেখানে একটি দোকানে সুযোগ বুঝে রাসেল স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি খুলে বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও বাজারের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সোহেল ও কামালকে আটক করে।
​থানায় সোপর্দ:
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও তাওহিদী জনতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ভুক্তভোগী রাসেলসহ আটককৃত দুই অভিযুক্তকে কমলনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
​অভিযুক্তদের বক্তব্য:
আটককৃত সোহেল ও কামাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেলের সাথে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়া বা নির্যাতনের বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য প্রদান করেছে।
​পুলিশের পদক্ষেপ:
কমলনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্তরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।