০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালী সদরে হায়দার মিয়ার হাট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬৬ বার

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,

স্টাফ রিপোর্টার

সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার থাকলেও নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ভূমি অফিসের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নামজারি (মিউটেশন) করতে চাওয়া হয় অতিরিক্ত টাকা। প্রতিবাদ করলে গালিগালাজ এবং হয়রানির হুমকির বিষয়টি এখন এই কার্যালয়ে ‘ওপেন সিক্রেট’।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি মো. আবদুল মতিন প্রকাশ্যেই অর্থ লেনদেন করছেন। ভিডিও চিত্রে তাকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেলেও অদৃশ্য এক শক্তির প্রভাবে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অভিযোগ আছে, তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিলেও তা মাঝপথেই গায়েব হয়ে যায়। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামজারি সম্পন্ন করতে ১২ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো টাকার বিনিময়ে দ্রুত সেবা পেলেও সাধারণ মানুষের ফাইল পড়ে থাকে মাসের পর মাস। আবুল কাশেম নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, মাত্র দুই হাজার টাকার কাজের জন্য তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দেয়ায় তিন মাস ধরে তার ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। অ্যাডভোকেট উত্তম নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা প্রতিবাদ করলে সেবাগ্রহীতাদের ‘বের হয়ে যা’ বলে ধমক দেয়া এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কর্মকর্তা চা পান বা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত সময় কাটান, কিন্তু ফাইল দেখেন না। বাদশা মিয়া নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, ‘ওনার কাছে গেলে ভিক্ষার মতো টাকা চায়। টাকা না দিলে ধমক দিয়ে বের করে দেয়। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?’এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে যান অভিযুক্ত নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিন। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, নির্দিষ্ট করে যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, তবে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একজন কর্মকর্তার এমন স্বেচ্ছাচারিতা পুরো ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাই সাধারণ মানুষকে এই ‘ঘুষের জ্বালা’ থেকে মুক্তি দিতে প্রশাসনের স্বচ্ছ ও দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলেও জানান তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নোয়াখালী সদরে হায়দার মিয়ার হাট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৬:১২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,

স্টাফ রিপোর্টার

সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার থাকলেও নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ভূমি অফিসের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নামজারি (মিউটেশন) করতে চাওয়া হয় অতিরিক্ত টাকা। প্রতিবাদ করলে গালিগালাজ এবং হয়রানির হুমকির বিষয়টি এখন এই কার্যালয়ে ‘ওপেন সিক্রেট’।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি মো. আবদুল মতিন প্রকাশ্যেই অর্থ লেনদেন করছেন। ভিডিও চিত্রে তাকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেলেও অদৃশ্য এক শক্তির প্রভাবে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অভিযোগ আছে, তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিলেও তা মাঝপথেই গায়েব হয়ে যায়। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামজারি সম্পন্ন করতে ১২ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো টাকার বিনিময়ে দ্রুত সেবা পেলেও সাধারণ মানুষের ফাইল পড়ে থাকে মাসের পর মাস। আবুল কাশেম নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, মাত্র দুই হাজার টাকার কাজের জন্য তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দেয়ায় তিন মাস ধরে তার ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। অ্যাডভোকেট উত্তম নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা প্রতিবাদ করলে সেবাগ্রহীতাদের ‘বের হয়ে যা’ বলে ধমক দেয়া এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কর্মকর্তা চা পান বা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত সময় কাটান, কিন্তু ফাইল দেখেন না। বাদশা মিয়া নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, ‘ওনার কাছে গেলে ভিক্ষার মতো টাকা চায়। টাকা না দিলে ধমক দিয়ে বের করে দেয়। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?’এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে যান অভিযুক্ত নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিন। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, নির্দিষ্ট করে যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, তবে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একজন কর্মকর্তার এমন স্বেচ্ছাচারিতা পুরো ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাই সাধারণ মানুষকে এই ‘ঘুষের জ্বালা’ থেকে মুক্তি দিতে প্রশাসনের স্বচ্ছ ও দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলেও জানান তারা।