০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীনগরে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ ঘিরে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৩, আহত অন্তত ১০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকা প্রায় আধাঘণ্টা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য রবিউল আউয়াল রবির নেতৃত্বে একটি পক্ষ বাঙ্গরা বাজারের সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ সময় বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি শামীম মিয়া, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মজনুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এতে বাধা দেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলেও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব কাউছার আহমেদ ও তার অনুসারীরাও অংশ নেন।
প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, যুবদল সভাপতি শামীম মিয়া, তার ছেলে শান্ত, বাজার কমিটির সেক্রেটারি আতিক, বিএনপি নেতা মজনুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা চেয়ারম্যান ও তার স্বজনদের ঘেরাও করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বিএনপি সমর্থকদের দায়ের করা মামলায় চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি (৫২), তার ছোট ভাই রুবেল মিয়া (৩৮) ও মামাতো ভাই পলাশ মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি বলেন, “সময়মতো পুলিশ না এলে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের হত্যা করতে পারত। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে যুবদল নেতা কাউছার আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণে ব্যবসায়ীরা বাধা দিলে চেয়ারম্যানের লোকজনই প্রথম হামলা চালায়।”
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি শামীম মিয়ার দায়ের করা মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।o ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে উদ্ধার করে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি কোনো মবের ঘটনা নয়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নবীনগরে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ ঘিরে সংঘর্ষ: চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৩, আহত অন্তত ১০

আপডেট টাইম : ০২:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকা প্রায় আধাঘণ্টা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য রবিউল আউয়াল রবির নেতৃত্বে একটি পক্ষ বাঙ্গরা বাজারের সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ সময় বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি শামীম মিয়া, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মজনুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এতে বাধা দেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলেও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব কাউছার আহমেদ ও তার অনুসারীরাও অংশ নেন।
প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি, তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, যুবদল সভাপতি শামীম মিয়া, তার ছেলে শান্ত, বাজার কমিটির সেক্রেটারি আতিক, বিএনপি নেতা মজনুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা চেয়ারম্যান ও তার স্বজনদের ঘেরাও করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বিএনপি সমর্থকদের দায়ের করা মামলায় চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি (৫২), তার ছোট ভাই রুবেল মিয়া (৩৮) ও মামাতো ভাই পলাশ মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি বলেন, “সময়মতো পুলিশ না এলে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের হত্যা করতে পারত। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে যুবদল নেতা কাউছার আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণে ব্যবসায়ীরা বাধা দিলে চেয়ারম্যানের লোকজনই প্রথম হামলা চালায়।”
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি শামীম মিয়ার দায়ের করা মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।o ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে উদ্ধার করে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি কোনো মবের ঘটনা নয়।”