০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতুল্লায় থানার পাশেই ‘মিনি থানা’: দালাল শহিদের ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৯ বার

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি:-

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি গলির ভেতরে অবস্থিত ‘শহিদ কম্পিউটার’ নামের একটি দোকান। সাইনবোর্ডে কম্পিউটার কম্পোজ ও অনলাইন সেবার কথা লেখা থাকলেও, ভেতরে গড়ে উঠেছে এক ভিন্ন জগৎ—যা স্থানীয়দের কাছে একপ্রকার সমান্তরাল ‘মিনি থানা’ হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, দোকানটির আড়ালে নিজেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন শহিদ নামে এক ব্যক্তি। পুরো থানা এলাকায় তিনি এখন ‘দালাল শহিদ’ নামেই পরিচিত। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দোকানের ভেতরে থাই গ্লাস দিয়ে আলাদা একটি বিলাসবহুল চেম্বার তৈরি করেছেন শহিদ। দামি চেয়ারে বসে তিনি বিচারকের ভঙ্গিতে আইনি পরামর্শ দেওয়ার অভিনয় করেন। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যখন দ্বিধায় পড়েন, তখন শহিদ বা তার সহযোগীরা তাদের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি কখনো নিজেকে ওসি, কখনো এসপি, আবার কখনো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘বিশেষ উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন।
সূত্র জানায়, অভিযোগ লিখতে গেলে অনেক সময় তিনি নিজেকে ‘দারোগা’ পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা বলেন এবং পুলিশ পাঠানোর নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। এমনকি তাকে ডিউটি অফিসারের কক্ষ কিংবা অফিসার ডেস্কে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং সহজেই তার ফাঁদে ফেলতে সহায়তা করে।
দালাল শহিদের প্রতারণার পদ্ধতি অত্যন্ত কৌশলী ও ভয়ংকর। অভিযোগ করতে আসা ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি প্রতিপক্ষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর বাদীকে চেম্বারে বসিয়ে রেখে গোপনে প্রতিপক্ষকে ফোন করে মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখান। পরে উভয় পক্ষকে আলাদা আলাদাভাবে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মাঝখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার প্রতারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার ভয় দেখিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফোন করে মামলায় নাম জড়ানোর আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাদী পক্ষ এসব ব্যক্তির নাম জানেনও না।
চার্জশিট থেকে আসামি বাদ দেওয়ার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক মামলার চার্জশিট থেকে টাকার বিনিময়ে আসামি বাদ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার নজরে এলে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায় এবং শহিদ থানার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অগোচরে এই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে শহিদ। প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করেছেন যে তার মাধ্যম ছাড়া থানায় কোনো কাজ সম্ভব নয়। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাজানো চেম্বার ও কথাবার্তার ধরণ দেখে তাকে পুলিশের লোক মনে হতো। তারা দ্রুত এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ফতুল্লায় থানার পাশেই ‘মিনি থানা’: দালাল শহিদের ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০২:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি:-

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি গলির ভেতরে অবস্থিত ‘শহিদ কম্পিউটার’ নামের একটি দোকান। সাইনবোর্ডে কম্পিউটার কম্পোজ ও অনলাইন সেবার কথা লেখা থাকলেও, ভেতরে গড়ে উঠেছে এক ভিন্ন জগৎ—যা স্থানীয়দের কাছে একপ্রকার সমান্তরাল ‘মিনি থানা’ হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, দোকানটির আড়ালে নিজেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন শহিদ নামে এক ব্যক্তি। পুরো থানা এলাকায় তিনি এখন ‘দালাল শহিদ’ নামেই পরিচিত। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দোকানের ভেতরে থাই গ্লাস দিয়ে আলাদা একটি বিলাসবহুল চেম্বার তৈরি করেছেন শহিদ। দামি চেয়ারে বসে তিনি বিচারকের ভঙ্গিতে আইনি পরামর্শ দেওয়ার অভিনয় করেন। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যখন দ্বিধায় পড়েন, তখন শহিদ বা তার সহযোগীরা তাদের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি কখনো নিজেকে ওসি, কখনো এসপি, আবার কখনো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘বিশেষ উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন।
সূত্র জানায়, অভিযোগ লিখতে গেলে অনেক সময় তিনি নিজেকে ‘দারোগা’ পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা বলেন এবং পুলিশ পাঠানোর নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। এমনকি তাকে ডিউটি অফিসারের কক্ষ কিংবা অফিসার ডেস্কে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং সহজেই তার ফাঁদে ফেলতে সহায়তা করে।
দালাল শহিদের প্রতারণার পদ্ধতি অত্যন্ত কৌশলী ও ভয়ংকর। অভিযোগ করতে আসা ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি প্রতিপক্ষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর বাদীকে চেম্বারে বসিয়ে রেখে গোপনে প্রতিপক্ষকে ফোন করে মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখান। পরে উভয় পক্ষকে আলাদা আলাদাভাবে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মাঝখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার প্রতারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার ভয় দেখিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফোন করে মামলায় নাম জড়ানোর আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাদী পক্ষ এসব ব্যক্তির নাম জানেনও না।
চার্জশিট থেকে আসামি বাদ দেওয়ার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক মামলার চার্জশিট থেকে টাকার বিনিময়ে আসামি বাদ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার নজরে এলে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায় এবং শহিদ থানার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অগোচরে এই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে শহিদ। প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করেছেন যে তার মাধ্যম ছাড়া থানায় কোনো কাজ সম্ভব নয়। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাজানো চেম্বার ও কথাবার্তার ধরণ দেখে তাকে পুলিশের লোক মনে হতো। তারা দ্রুত এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।