০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ বালু উত্তোলন ইস্যুতে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অভিযুক্ত তিনজন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫ বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনাটি উপজেলার রনসেন এলাকায়। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর শেখ, স্থানীয় বাসিন্দা বিলায়েত মাহাজনের ছেলে, জানান তিনি তার একটি জমি থেকে বালু উত্তোলন করে অন্য একটি জমি ভরাট করছিলেন। এ সময় এশিয়ান টেলিভিশনের উপজেলা প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী সুজন মজুমদার তার কাছে এসে উপজেলা প্রশাসনের জরিমানার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২০ দিনের জন্য বালু উত্তোলনের ‘অনুমতি’ দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

জাহাঙ্গীর শেখের দাবি, প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাকি ১০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী মেহেদী হাসান এবং আঞ্চলিক দৈনিক ‘লোকসমাজ’-এর প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী সবুর রানা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী জানান, তাদের হুমকি এবং ড্রেজার হারানোর আশঙ্কায় তিনি এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কার্যক্রমের অনুমোদন দেওয়া হয় না। কেউ প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানাতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌস বলেন, “উপজেলা প্রশাসন কখনোই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। কেউ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন মজুমদার বলেন, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না এবং অভিযোগকারী ব্যক্তিকে চিনেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজন মজুমদার, সবুর রানা ও মেহেদী হাসানের সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে ও উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে পূর্বেও চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক দপ্তরে হয়রানি সৃষ্টি এবং বিভিন্ন কর্মসূচির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

অবৈধ বালু উত্তোলন ইস্যুতে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অভিযুক্ত তিনজন

আপডেট টাইম : ০২:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনাটি উপজেলার রনসেন এলাকায়। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর শেখ, স্থানীয় বাসিন্দা বিলায়েত মাহাজনের ছেলে, জানান তিনি তার একটি জমি থেকে বালু উত্তোলন করে অন্য একটি জমি ভরাট করছিলেন। এ সময় এশিয়ান টেলিভিশনের উপজেলা প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী সুজন মজুমদার তার কাছে এসে উপজেলা প্রশাসনের জরিমানার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২০ দিনের জন্য বালু উত্তোলনের ‘অনুমতি’ দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

জাহাঙ্গীর শেখের দাবি, প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাকি ১০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী মেহেদী হাসান এবং আঞ্চলিক দৈনিক ‘লোকসমাজ’-এর প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী সবুর রানা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী জানান, তাদের হুমকি এবং ড্রেজার হারানোর আশঙ্কায় তিনি এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কার্যক্রমের অনুমোদন দেওয়া হয় না। কেউ প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানাতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌস বলেন, “উপজেলা প্রশাসন কখনোই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। কেউ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন মজুমদার বলেন, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না এবং অভিযোগকারী ব্যক্তিকে চিনেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজন মজুমদার, সবুর রানা ও মেহেদী হাসানের সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে ও উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে পূর্বেও চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক দপ্তরে হয়রানি সৃষ্টি এবং বিভিন্ন কর্মসূচির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।