মোহাম্মদ জাকির শাহ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নে ক্রয়কৃত জমি দখলে বাধা, গাছপালা লুটে নেওয়া এবং এক প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের সেলিম মেম্বারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আব্দুস সহিদ ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাজিরহাট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস সহিদ স্থানীয় রফিক উল্লাহর কাছ থেকে ১৮ শতাংশ বসতভিটা ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকেই একই এলাকার হাসান, শাহিনুর ও শামীমসহ বেশ কয়েকজন তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে। ভুক্তভোগী আব্দুস সহিদের দাবি, বিবাদীরা জোরপূর্বক তার জমির গাছপালা ও ফলমূল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, এমনকি জমির মাটিও কেটে নিয়ে গেছে। এসবের প্রতিবাদ করায় বিবাদীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এতে প্রায় এক লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
হামলার সময় আব্দুস সহিদের স্ত্রী কমলা খাতুন ও তার দুই মেয়ে বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। বিবাদীরা তাদের শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছে বলে অভিযোগে করা হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুস সহিদ বলেন:
“আমি প্রবাসে থেকে হাড়ভাঙ্গা খাটুনির টাকা দিয়ে জমি কিনেও আজ নিজ ভূমিতে যেতে পারছি না। তারা শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং প্রতিবাদ করলে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমিটি আমার, আমি আমার জমি দখল করছি। সহিদ গংরাই আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছে এবং উল্টো আমাদের মারধর ও মামলার ভয় দেখাচ্ছে।”
এ বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মারধরের বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 



















