০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগঞ্জে বিদ্যু অফিসে গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৩৮ বার

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে গ্রাহক হয়রানীর নানা অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অফিসে আসা-যাওয়া করেও সংযোগ পাচ্ছে না। আবার গোপন চুক্তিতে মিলে নতুন সংযোগ। বিদ্যুতের তাঁর সংকট,ট্রান্সমিটার বরাদ্ধ নেই,নতুন মিটার আসছে না,আবেদনে অনলাইন ত্রুটি,অনলাইন জমিনের খতিয়ান নেই,বাবার নামে খতিয়ান থাকলেও ছেলে নামে নেই এমন সমস্যা দেখিয়ে অনেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না। অথচ অবৈধ ইটভাটা,বহুতল ভবনের মালিকেরা আবেদন করার কয়েকদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং লোড় বৃদ্ধিও পাচ্ছে।
আশারকোটা গ্রামের নুরু মিয়ার পুত্র সাদ্দাম হোসেন ৪ মে-২৫ অনলাইনে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করলে জমিনের খতিয়ানে পিতার নাম হওয়ায় সংযোগ এখনো পাচ্ছে না,রামগঞ্জ পৌর কর্মচারী পিন্টু তার স্ত্রীর নামে,আরিছপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র মাকসুদুর রহমান,পৌর আগুনখীল গ্রামের বিএম ছিদ্দিকের পুত্র মোস্তাক আহম্মেদ,রতনপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র মাহাবুবুল রহমান,পশ্চিম অবিরামপুর শাহ জামে মসজিদ কমিটি সহ অনেকেই মিটারের জন্য আবেদন করার মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও সংযোগ মিলছে না। শুধু তাই নয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কতৃক নির্মিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১২টি প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বার বার ধরনা দিয়েও সফল হচ্ছে না। পৌরসভার এ্যাপোলো হাসপাতালে ৩ পেজ এবং রতনপুর গ্রামের বেলায়েত মাস্টার সাড়ে ৭কিলো, সোনাপুর কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেস্কে ৮০ কিলো সংযোগের জন্য ২ বছর আগে টাকা জমা দিলেও ট্রাস্টমিটার সংকট দেখিয়ে সংযোগ দিচ্ছে না। কিন্তু গোপন চুক্তির মাধ্যমে আঙ্গাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্যবসায়ি আবুল কালাম আজাদান,রামগঞ্জ সাব-রেস্ট্রি: অফিস সংলগ্ন স্থানে মাওঃ মিজানুর রহমান ও সোনাপুর চৌরাস্তা ফরাদের বাড়ির পাশে সাড়ে ৩৭ কিলো ৩টি ট্রাস্টমিটার লাগিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে ৩টি ট্রান্সমিটার ২মাস আগে লাগালেও চুক্তির টাকা পরিশোধ না করায় মে পর্যন্ত ট্রান্সমিটারগুলো সংযোগের তাঁর লাগানো হয়নি। ইটভাটার লাইসেন্স না থাকার অজুহাতে দেহলা মদিনা ব্রিকস ফিল্ডের মালিক আমির হোসেন ডিবজলকে নানা ভাবে হয়রানী করে ব্রিকস ফিল্ডে সংযোগ দেয়। অবৈধ ভাবে মক্কা ব্রিকস ফিল্ডে ৪০ থেকে ১৫০ কিলো,আকারতমা মদিনা ব্রিকস ফিল্ডে ৪০ থেকে ১২০ কিলো,দেহলা মদিনা-২ ব্রিকস ফিল্ডে ৪০ থেকে ১৫০কিলো,মেঘনা ব্রিকস ফিল্ডে ২০০ থেকে ২৫০ লোড বাড়ানো হয়। পৌরশহরে রেজা পাটোয়ারীর নতুন ভবনের পাশে ৪০ কিলো পুর্বের ট্রান্সমিটার থাকলেও একই স্থানে আরো ৮০ কিলো লোড় বাড়িয়ে দেয়। লামচর-করপাড়া এলাকার ইলেক্ট্রসিয়ান ফয়েজ বলেন,বিধিমোতাবেক গ্রাহকেরা কোন সেবাই পাচ্ছে না। টাকা দিলে কোন বিধির প্রয়োজন হয় না। নাম প্রকাশ না করে রামগঞ্জ জোনাল অফিসের তালিকাভুক্ত কয়েকজন ইলেক্ট্রসিয়ান বলেন রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ওয়ারিং ইস্পেটর শিমুল বড়ুয়াকে প্রতি মিটারে সর্বোনিম্ম ৭শত টাকা করে না দিলে মিটার অনুমোধন হয় না। বড় কাজগুলো ডিজিএমের সাথে কন্ট্রাক না করলে ট্রান্সমিটার নাই,তাঁর নাই,মিটার নাই সহ নানা অজুহাত দেখিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। ওয়ারিং ইস্পেক্টর আমাদের সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে আমি মসজিদ,মাদ্রাসা,মন্দির,র্গীজা বুঝি না। মিটার প্রতি টাকা না দিলে অনুমোধন করা হবে না। ইলেক্ট্রিয়ানরা আরো বলেন,১২/১১/২০২৫ এবং ২৩/১২/২০২৫ইং বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোঃ মামুন ভুইয়া স্বাক্ষরিত পরিপত্রকেও ডিজিএম গুরুত্ব দিচ্ছে না। পশ্চিম আঙ্গারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, আমার বিদ্যালয়ের পাশের মসজিদের ট্রান্সমিটার লাগানোর জন্য আবেদন করে টাকা জমা দিলে ডিজিএম অযুক্তিক শর্ত বেধে দেয়। যা মসজিদ কতৃপক্ষের পক্ষে পুরন করা সম্ভব নয়। কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সের সভাপতি বিল্লাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন,কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সের পক্ষে মোঃ বেলায়েত হোসেন বাচ্চুর আবেদনের প্রেক্ষিতে অফিসের সংশ্লিষ্টরা যাচাই-বাচাই করে টাকা জমার চিঠি ইস্যু করে। চিঠির আলোকে জমানতের ৯৮ হাজার টাকা জমা দেওয়ার ২বছরেও ট্রাস্টমিটার দিচ্ছে না। অথচ র্মাকেটের পাশে নতুন ৫তলা ভবনে আবেদনের করার ২ মাসের মধ্যে ট্রান্সমিটার এবং সংযোগ পেয়েছে। রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ওয়ারিং ইস্পেক্টর শিমুল বড়ুয়া বলেন,কেউ আমাকে টাকা দেয় না,গ্রাহক অনলাইনে আবেদন করলে সিরিয়াল অনুয়ায়ী মিটার পাচ্ছে। রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহিন রেজা ফরাজী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর ১২টি মিটারের মধ্যে ৬টি অনুমোধন হয়েছে,নতুন সরকার ক্ষমতা আসার পর এখান পর্যন্ত কোন বরাদ্ধ আসেনি। গ্রাহকরা শর্তপুরন না করা সংযোগ পাচ্ছে না। ইটভাটার মালিকরা নয় যেকোন ব্যক্তিরা প্রয়োজনে লোড় বৃদ্ধির আবেদন করলে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রামগঞ্জে বিদ্যু অফিসে গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১০:০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে গ্রাহক হয়রানীর নানা অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অফিসে আসা-যাওয়া করেও সংযোগ পাচ্ছে না। আবার গোপন চুক্তিতে মিলে নতুন সংযোগ। বিদ্যুতের তাঁর সংকট,ট্রান্সমিটার বরাদ্ধ নেই,নতুন মিটার আসছে না,আবেদনে অনলাইন ত্রুটি,অনলাইন জমিনের খতিয়ান নেই,বাবার নামে খতিয়ান থাকলেও ছেলে নামে নেই এমন সমস্যা দেখিয়ে অনেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না। অথচ অবৈধ ইটভাটা,বহুতল ভবনের মালিকেরা আবেদন করার কয়েকদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং লোড় বৃদ্ধিও পাচ্ছে।
আশারকোটা গ্রামের নুরু মিয়ার পুত্র সাদ্দাম হোসেন ৪ মে-২৫ অনলাইনে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করলে জমিনের খতিয়ানে পিতার নাম হওয়ায় সংযোগ এখনো পাচ্ছে না,রামগঞ্জ পৌর কর্মচারী পিন্টু তার স্ত্রীর নামে,আরিছপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র মাকসুদুর রহমান,পৌর আগুনখীল গ্রামের বিএম ছিদ্দিকের পুত্র মোস্তাক আহম্মেদ,রতনপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র মাহাবুবুল রহমান,পশ্চিম অবিরামপুর শাহ জামে মসজিদ কমিটি সহ অনেকেই মিটারের জন্য আবেদন করার মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও সংযোগ মিলছে না। শুধু তাই নয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কতৃক নির্মিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১২টি প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বার বার ধরনা দিয়েও সফল হচ্ছে না। পৌরসভার এ্যাপোলো হাসপাতালে ৩ পেজ এবং রতনপুর গ্রামের বেলায়েত মাস্টার সাড়ে ৭কিলো, সোনাপুর কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেস্কে ৮০ কিলো সংযোগের জন্য ২ বছর আগে টাকা জমা দিলেও ট্রাস্টমিটার সংকট দেখিয়ে সংযোগ দিচ্ছে না। কিন্তু গোপন চুক্তির মাধ্যমে আঙ্গাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্যবসায়ি আবুল কালাম আজাদান,রামগঞ্জ সাব-রেস্ট্রি: অফিস সংলগ্ন স্থানে মাওঃ মিজানুর রহমান ও সোনাপুর চৌরাস্তা ফরাদের বাড়ির পাশে সাড়ে ৩৭ কিলো ৩টি ট্রাস্টমিটার লাগিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে ৩টি ট্রান্সমিটার ২মাস আগে লাগালেও চুক্তির টাকা পরিশোধ না করায় মে পর্যন্ত ট্রান্সমিটারগুলো সংযোগের তাঁর লাগানো হয়নি। ইটভাটার লাইসেন্স না থাকার অজুহাতে দেহলা মদিনা ব্রিকস ফিল্ডের মালিক আমির হোসেন ডিবজলকে নানা ভাবে হয়রানী করে ব্রিকস ফিল্ডে সংযোগ দেয়। অবৈধ ভাবে মক্কা ব্রিকস ফিল্ডে ৪০ থেকে ১৫০ কিলো,আকারতমা মদিনা ব্রিকস ফিল্ডে ৪০ থেকে ১২০ কিলো,দেহলা মদিনা-২ ব্রিকস ফিল্ডে ৪০ থেকে ১৫০কিলো,মেঘনা ব্রিকস ফিল্ডে ২০০ থেকে ২৫০ লোড বাড়ানো হয়। পৌরশহরে রেজা পাটোয়ারীর নতুন ভবনের পাশে ৪০ কিলো পুর্বের ট্রান্সমিটার থাকলেও একই স্থানে আরো ৮০ কিলো লোড় বাড়িয়ে দেয়। লামচর-করপাড়া এলাকার ইলেক্ট্রসিয়ান ফয়েজ বলেন,বিধিমোতাবেক গ্রাহকেরা কোন সেবাই পাচ্ছে না। টাকা দিলে কোন বিধির প্রয়োজন হয় না। নাম প্রকাশ না করে রামগঞ্জ জোনাল অফিসের তালিকাভুক্ত কয়েকজন ইলেক্ট্রসিয়ান বলেন রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ওয়ারিং ইস্পেটর শিমুল বড়ুয়াকে প্রতি মিটারে সর্বোনিম্ম ৭শত টাকা করে না দিলে মিটার অনুমোধন হয় না। বড় কাজগুলো ডিজিএমের সাথে কন্ট্রাক না করলে ট্রান্সমিটার নাই,তাঁর নাই,মিটার নাই সহ নানা অজুহাত দেখিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। ওয়ারিং ইস্পেক্টর আমাদের সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে আমি মসজিদ,মাদ্রাসা,মন্দির,র্গীজা বুঝি না। মিটার প্রতি টাকা না দিলে অনুমোধন করা হবে না। ইলেক্ট্রিয়ানরা আরো বলেন,১২/১১/২০২৫ এবং ২৩/১২/২০২৫ইং বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোঃ মামুন ভুইয়া স্বাক্ষরিত পরিপত্রকেও ডিজিএম গুরুত্ব দিচ্ছে না। পশ্চিম আঙ্গারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, আমার বিদ্যালয়ের পাশের মসজিদের ট্রান্সমিটার লাগানোর জন্য আবেদন করে টাকা জমা দিলে ডিজিএম অযুক্তিক শর্ত বেধে দেয়। যা মসজিদ কতৃপক্ষের পক্ষে পুরন করা সম্ভব নয়। কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সের সভাপতি বিল্লাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন,কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সের পক্ষে মোঃ বেলায়েত হোসেন বাচ্চুর আবেদনের প্রেক্ষিতে অফিসের সংশ্লিষ্টরা যাচাই-বাচাই করে টাকা জমার চিঠি ইস্যু করে। চিঠির আলোকে জমানতের ৯৮ হাজার টাকা জমা দেওয়ার ২বছরেও ট্রাস্টমিটার দিচ্ছে না। অথচ র্মাকেটের পাশে নতুন ৫তলা ভবনে আবেদনের করার ২ মাসের মধ্যে ট্রান্সমিটার এবং সংযোগ পেয়েছে। রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ওয়ারিং ইস্পেক্টর শিমুল বড়ুয়া বলেন,কেউ আমাকে টাকা দেয় না,গ্রাহক অনলাইনে আবেদন করলে সিরিয়াল অনুয়ায়ী মিটার পাচ্ছে। রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহিন রেজা ফরাজী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর ১২টি মিটারের মধ্যে ৬টি অনুমোধন হয়েছে,নতুন সরকার ক্ষমতা আসার পর এখান পর্যন্ত কোন বরাদ্ধ আসেনি। গ্রাহকরা শর্তপুরন না করা সংযোগ পাচ্ছে না। ইটভাটার মালিকরা নয় যেকোন ব্যক্তিরা প্রয়োজনে লোড় বৃদ্ধির আবেদন করলে দেওয়ার বিধান রয়েছে।