শেরপুরের নালিতাবাড়ীসহ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা এখনো কাটেনি। বোরো ধান ঘরে তোলার মৌসুমে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও কৃষি বিভাগ জানায়, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার ভোগাই, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতীসহ সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবার (১৩ মে) ভোররাত থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী বর্ষণের ফলে শেরপুর জেলার চারটি পাহাড়ি নদীতে তীব্র স্রোতে পাহাড়ি ঢল নামে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং নিচু এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়ে।
কৃষকরা জানান, অনেক স্থানে ধান পেকে গেলেও সময়মতো কাটতে পারেননি। কোথাও কোথাও কাটা ধানও পানিতে ভেসে গেছে। ফলে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে গ্রামীণ সড়ক কর্দমাক্ত ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
শেরপুর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রথম দফার বৃষ্টিপাতে ২৪৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেলেও পরবর্তীতে রোদ ওঠায় অধিকাংশ খেত শুকিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬৭ শতাংশ বোরো ফসল কাটা শেষ হয়েছে। নতুন করে ভারী বর্ষণ না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।
মাহফুজুর রহমান সাইমন শেরপুর 



















