০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিদস্যুদের কবলে বন্দোবস্ত পাওয়া জমি, ধান আত্মসাতের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বন্দোবস্ত পাওয়া এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের (বা স্থানীয় বাসিন্দার) জমি জবরদখল, জোরপূর্বক ধান রোপণ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার চর গাজী ইউনিয়নের আলেকজান্ডার এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ বিনু এই জমি উদ্ধারে ও জানমালের নিরাপত্তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

​এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড়খেরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনেও আবেদনকারীর ভোগদখল ও বন্দোবস্তের সত্যতা পাওয়া গেছে।
​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাবেক ৫৬/৪৩ নং দক্ষিণ টুমচর মৌজার দিয়ারা জরিপীয় ৪৫৬৫/২ দাগের ১৬৪৮/২০০০-০১ নং বন্দোবস্ত নথি মূলে ১.৫০ একর জমির মালিক ও দখলকার রিয়াজ মাহমুদ বিনু। তিনি উক্ত জমিতে ১০১০ নং খতিয়ান সৃজন করে নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন।
​ভুক্তভোগী রিয়াজ মাহমুদ বিনু অভিযোগে জানান, জমিটি তিনি মৌসুমী আমন ধান চাষের উপযোগী করার পর, গত ২০/১১/২০২০ইং রাতে স্থানীয় মহি উদ্দিন, মো: শাহাদাত ও ইব্রাহীমসহ একদল ভাড়াটিয়া লোক বেআইনিভাবে উক্ত জমিতে আমন ধান রোপণ করে ফেলে। খবর পেয়ে জমিতে গিয়ে বাধা দিলে বিবাদী ও তাদের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে রিয়াজ মাহমুদকে মারতে তেড়ে আসে এবং ভবিষ্যতে জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় চর গাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলেও দীর্ঘ সময়ে কোনো প্রতিকার মেলেনি।
​অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশক্রমে বড়খেরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা গত ০৫/০৯/২০২১ইং তারিখে (স্মারক নং-০৫) একটি সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
​তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ টুমচর মৌজার উক্ত ১.৫০ একর ভূমি রিয়াজ মাহমুদ বিনু গং-এর নামেই বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে R.S. জরিপে দাগ নম্বর পরিবর্তন হয়ে ৮৫৩৬ দাগে সরকারের নামে রেকর্ড হলেও, সরেজমিনে তদন্তকালে আবেদনকারী রিয়াজ মাহমুদ বিনু গং-কেই উক্ত ভূমিতে চাষাবাদ ও ভোগদখলে পাওয়া গেছে।
​জমির বৈধ মালিকানা ও দখল থাকা সত্ত্বেও ভূমিদস্যু চক্রের এমন খামখেয়ালি ও হুমকির কারণে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। এই বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং জমি ও ধান উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ভূমিদস্যুদের কবলে বন্দোবস্ত পাওয়া জমি, ধান আত্মসাতের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৮:১৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বন্দোবস্ত পাওয়া এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের (বা স্থানীয় বাসিন্দার) জমি জবরদখল, জোরপূর্বক ধান রোপণ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার চর গাজী ইউনিয়নের আলেকজান্ডার এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ বিনু এই জমি উদ্ধারে ও জানমালের নিরাপত্তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

​এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড়খেরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনেও আবেদনকারীর ভোগদখল ও বন্দোবস্তের সত্যতা পাওয়া গেছে।
​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাবেক ৫৬/৪৩ নং দক্ষিণ টুমচর মৌজার দিয়ারা জরিপীয় ৪৫৬৫/২ দাগের ১৬৪৮/২০০০-০১ নং বন্দোবস্ত নথি মূলে ১.৫০ একর জমির মালিক ও দখলকার রিয়াজ মাহমুদ বিনু। তিনি উক্ত জমিতে ১০১০ নং খতিয়ান সৃজন করে নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন।
​ভুক্তভোগী রিয়াজ মাহমুদ বিনু অভিযোগে জানান, জমিটি তিনি মৌসুমী আমন ধান চাষের উপযোগী করার পর, গত ২০/১১/২০২০ইং রাতে স্থানীয় মহি উদ্দিন, মো: শাহাদাত ও ইব্রাহীমসহ একদল ভাড়াটিয়া লোক বেআইনিভাবে উক্ত জমিতে আমন ধান রোপণ করে ফেলে। খবর পেয়ে জমিতে গিয়ে বাধা দিলে বিবাদী ও তাদের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে রিয়াজ মাহমুদকে মারতে তেড়ে আসে এবং ভবিষ্যতে জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় চর গাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলেও দীর্ঘ সময়ে কোনো প্রতিকার মেলেনি।
​অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশক্রমে বড়খেরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা গত ০৫/০৯/২০২১ইং তারিখে (স্মারক নং-০৫) একটি সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
​তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ টুমচর মৌজার উক্ত ১.৫০ একর ভূমি রিয়াজ মাহমুদ বিনু গং-এর নামেই বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে R.S. জরিপে দাগ নম্বর পরিবর্তন হয়ে ৮৫৩৬ দাগে সরকারের নামে রেকর্ড হলেও, সরেজমিনে তদন্তকালে আবেদনকারী রিয়াজ মাহমুদ বিনু গং-কেই উক্ত ভূমিতে চাষাবাদ ও ভোগদখলে পাওয়া গেছে।
​জমির বৈধ মালিকানা ও দখল থাকা সত্ত্বেও ভূমিদস্যু চক্রের এমন খামখেয়ালি ও হুমকির কারণে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। এই বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং জমি ও ধান উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।