লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় ব্যাপকহারে বেড়েছে চুরি-ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা। রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ উৎপাত। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে। বাড়ছে চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণ,মাদক ও ইভটিজিং সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড। গত একবছর ধরে একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ড যেন বেড়েই চলেছে। কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা চুরি ডাকাতি। প্রতিরাতে উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরি-ডাকাতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী।
সুত্র জানায়,উপজেলার চরকাদিরা, হাজিরহাট, চরফলকন, পাটারিরহাট,চরকালকিনি, চরমার্টিন, সাহেবেরহাট ও তোরাবগন্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চলছে একের পর এক চুরি ডাকাতি ও ধর্ষণের মত ঘটনা।
গত এক বছরে বেশ কিছু গণধর্ষণ, ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা, কিশোরগ্যাং, চুরি ও ডাকাতির পাশাপাশি গরু চুরি, মানুষের বসত বাড়িতে চুরি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। বসতবাড়ির পানির কল, মটার, শাড়ি কাপড় কোন কিছুই বাদ যাচ্ছেনা চোরের হাত থেকে। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চলছে কিশোরগ্যাংয়ের মহড়া।
উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ৮১ টি ওয়ার্ডের অলিগলিতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোরগ্যাংচক্র। এরা সংঘবদ্ধ হয়ে গভীর রাতে মানুষের গরু চুরি থেকে শুরু করে বসতবাড়িতে হানা দিচ্ছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলেও পুলিশ ধর্ষণে অভিযুক্তদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও বেশীরভাগ রয়েছে অধরা । চুরি ডাকাতির মামলায় আসামী গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। এতে দিনদিন মানুষের মধ্যে আতংক ও উৎকন্ঠা বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের ৮১ টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও রয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। অন্যদিকে কমলনগর থানায় দালালের উৎপাদও বেড়ে গেছে।
সুত্রমতে: ২৯ অক্টোবর রাতে উপজেলার তোরাবগন্জ ইউনিয়নে এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। ১১ অক্টোবর চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু এলাকায় চিপসের প্রলোভন দিয়ে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন বশির সর্দার নামে এক ব্যক্তি। গত বছর ৯ ডিসেম্বর রাতে চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী এলাকায় ফিল্মি স্টাইলে মাকে বেঁধে এক তরুণীকে ৪ জন মিলি ধর্ষণ কর হয়। ১৫ অক্টোবর চরমার্টিন ইউনিয়নে খালা শাশুড়ীর সাথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া ২৯ অক্টোবর চরমার্টিন ইউনিয়নের আবুধাবি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ওই বাড়ী থেকে ১৬ লাখ টাকার মালামাল ও ১৪ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারী রাতে চরফলকন গ্রামে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে পরিবারের ১২ জনকে অচেতন করে ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। ২ এপ্রিল চরলরেন্স ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু এলাকা থেকে কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ৪ এপ্রিল তোরাবগন্জ ইউনিয়নের চরপাগলা গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৯ ডিসেম্বর হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালিয়া গ্রামে সৌদি প্রবাসীর বাড়ীতে পরিবারের সবাইকে হাত পাঁ বেঁধে ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। ১২ আগস্ট চরলরেন্স ইউনিয়নের করইতলা এলাকায় আরেক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৭ অক্টোবর রাতে হাজিরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ডাকাতি হয়। এসময় ডাকাতদল নগদ ৫ লাখ টাকা সহ ৮ ভরি স্বর্ণ অলংকার লুট করে। হাজিরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ইয়াসিন আরাফাতের বাড়ীতে চুরি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ওলি উদ্দীন মাসুদের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এভাবে প্রতিদিন উপজেলার কোথাও না কোথাও চলছে চুরি ডাকাতির ঘটনা। এসব ঘটনায় পুলিশ অপরাধী ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় জনমনে পুলিশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এব্যাপারে চরবসু এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন,যে ভাবে চুরি ডাকাতি বেড়ে গেছে, তাতে আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। চুরির পাশাপাশি ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাও ঘটছে। কমলনগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হয়না।
চরমার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দা খবিরুল হক বলেন, মানুষের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই, যেভাবে গণহারে চুরি ডাকাতি হচ্ছে-থানা পুলিশকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা। চুরি ডাকাতির পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাও শুনতেছি । আমরা মেয়েদের নিয়ে চিন্তিত রয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গ্রাম পুলিশ দিয়ে নিয়মিত পাহারা দিচ্ছি। চুরি ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা সভায় বার বার বলেছি। এরপরেও কোন ভাবেই চুরি ডাকাতি বন্ধ করা যাচ্ছেনা। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কিছু চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ সাথে সাথে ব্যবস্থাও নিচ্ছে। থানায় আসা অভিযোগগুলো গ্রহন করে বেশ কিছু অপরাধী গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য অপরাধী ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি, কবির হোসেন রাকিব 



















