০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠ দিবসে কৃষকদের উৎসাহ, ফলনের প্রতিযোগিতায় জমজমাট ডিকাল্ব ৯২১৭

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের চামুন্ডাহ গ্রামে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিকাল্ব ৯২১৭ হাইব্রিড ভুট্টার মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশ।

আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। চলতি রবি মৌসুমে ডিকাল্ব ৯২১৭ জাতের ভুট্টা আবাদ করে অধিক ফলনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন তারা।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ফলন প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজ নিজ জমি থেকে সবচেয়ে বড় ও উন্নত মানের ৩টি করে ভুট্টার মোচা নিয়ে আসেন। পরে সেগুলোর ওজন পরিমাপের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। যার তিনটি মোচার মোট ওজন সবচেয়ে বেশি হয়েছে, তাকে বায়ার কোম্পানির পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন কৃষক মো. মশিউর রহমান। তার তিনটি মোচার মোট ওজন ছিল ১৩০০ গ্রাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মো. কাজল, যার মোচার মোট ওজন ছিল ১২৬৫ গ্রাম এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মো. মজিদুল হক, যার মোচার মোট ওজন ছিল ১২৫৮ গ্রাম।

প্রথম স্থান অধিকারী কৃষক মশিউর রহমান জানান, তিনি প্রায় সাত বিঘা জমিতে ডিকাল্ব ৯২১৭ আবাদ করেছেন এবং আশানুরূপ ফলন পেয়ে বেশ লাভবান হয়েছেন। তিনি বীজটির ঝড় সহনশীলতা ও অধিক ফলনশীলতার প্রশংসা করেন। এছাড়াও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মজিদুল হক জানান, তাদের গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই এ বীজ আবাদ করে লাভবান হয়েছেন।

কৃষকরা জানান, ডিকাল্ব ৯২১৭ জাতটি ঝড় সহনশীল, রোগ প্রতিরোধক্ষম ও অধিক ফলনশীল হওয়ায় এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বড় আকারের মোচা, সমান দানা ও কমলা বর্ণের কারণে বাজারে এ ভুট্টার চাহিদা ও মূল্য তুলনামূলক ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ভূট্টা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, সেচ, রোগবালাই দমন ও ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভুট্টা চাষে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিএম সিড কৃষিবিদ সঞ্জিত চন্দ্র রায়, মমিন বীজ ভান্ডারের পরিবেশক মো. মমিনুল ইসলাম, বায়ার কোম্পানির ফিল্ড অফিসার আবু জাহিদ, মেহেদী হাসান জাহিদ, এগ্রি কনসালট্যান্ট পারভেজ মোশারফ এবং রিটেইলার মো. রাশেদ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পারভেজ মোশারফ।

বক্তারা এ সময় বায়ার কোম্পানির আইএনএইচ -১৬০১৯ ও এজেড-২২৪১ এসটি ধানের জাত সম্পর্কে কৃষকদের সামনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন এবং আসন্ন আমন মৌসুমে উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য কৃষকদেরও সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রাণবন্ত এ মাঠ দিবস কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মত দেন আয়োজকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

মাঠ দিবসে কৃষকদের উৎসাহ, ফলনের প্রতিযোগিতায় জমজমাট ডিকাল্ব ৯২১৭

আপডেট টাইম : ১২:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের চামুন্ডাহ গ্রামে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিকাল্ব ৯২১৭ হাইব্রিড ভুট্টার মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশ।

আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। চলতি রবি মৌসুমে ডিকাল্ব ৯২১৭ জাতের ভুট্টা আবাদ করে অধিক ফলনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন তারা।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ফলন প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজ নিজ জমি থেকে সবচেয়ে বড় ও উন্নত মানের ৩টি করে ভুট্টার মোচা নিয়ে আসেন। পরে সেগুলোর ওজন পরিমাপের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। যার তিনটি মোচার মোট ওজন সবচেয়ে বেশি হয়েছে, তাকে বায়ার কোম্পানির পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন কৃষক মো. মশিউর রহমান। তার তিনটি মোচার মোট ওজন ছিল ১৩০০ গ্রাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মো. কাজল, যার মোচার মোট ওজন ছিল ১২৬৫ গ্রাম এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মো. মজিদুল হক, যার মোচার মোট ওজন ছিল ১২৫৮ গ্রাম।

প্রথম স্থান অধিকারী কৃষক মশিউর রহমান জানান, তিনি প্রায় সাত বিঘা জমিতে ডিকাল্ব ৯২১৭ আবাদ করেছেন এবং আশানুরূপ ফলন পেয়ে বেশ লাভবান হয়েছেন। তিনি বীজটির ঝড় সহনশীলতা ও অধিক ফলনশীলতার প্রশংসা করেন। এছাড়াও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মজিদুল হক জানান, তাদের গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই এ বীজ আবাদ করে লাভবান হয়েছেন।

কৃষকরা জানান, ডিকাল্ব ৯২১৭ জাতটি ঝড় সহনশীল, রোগ প্রতিরোধক্ষম ও অধিক ফলনশীল হওয়ায় এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বড় আকারের মোচা, সমান দানা ও কমলা বর্ণের কারণে বাজারে এ ভুট্টার চাহিদা ও মূল্য তুলনামূলক ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ভূট্টা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, সেচ, রোগবালাই দমন ও ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভুট্টা চাষে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিএম সিড কৃষিবিদ সঞ্জিত চন্দ্র রায়, মমিন বীজ ভান্ডারের পরিবেশক মো. মমিনুল ইসলাম, বায়ার কোম্পানির ফিল্ড অফিসার আবু জাহিদ, মেহেদী হাসান জাহিদ, এগ্রি কনসালট্যান্ট পারভেজ মোশারফ এবং রিটেইলার মো. রাশেদ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পারভেজ মোশারফ।

বক্তারা এ সময় বায়ার কোম্পানির আইএনএইচ -১৬০১৯ ও এজেড-২২৪১ এসটি ধানের জাত সম্পর্কে কৃষকদের সামনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন এবং আসন্ন আমন মৌসুমে উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য কৃষকদেরও সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রাণবন্ত এ মাঠ দিবস কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মত দেন আয়োজকরা।