লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যুগ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অর দৌড় অনেকটাই খোলামেলা। অনেক খেলোয়াড়ই মনে করছেন সোনার বলটা তাদের হাতে আসতে পারে। তবে গোল ডট কমের ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র্যাঙ্কিং বলছে ভিন্ন কথা। জানাচ্ছে, নবম ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনা একেবারেও শেষ হয়ে যায়নি মেসির!
যদিও এই মুহূর্তে সবার উপরে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। এই মৌসুমে তিনি ৬৫ গোল করেছেন। জিতেছেন বুন্দেসলিগা, ডিএফবি পোকাল ও ডিএফএল সুপার কাপ। ট্রফি না জেতার যে পুরোনো অপবাদ তাকে দেওয়া হতো, সেটা এখন অতীত। কেইন এখন পুরোপুরি প্রমাণ করতে চাইছেন যে তিনি ব্যক্তিগত পুরস্কারেরও যোগ্য।
দ্বিতীয় স্থানে আছেন পিএসজির ওসমান দেম্বেলে। গত বছর ব্যালন ডি’অর জেতার পর এই মৌসুমে চোটের কারণে শুরুটা ভালো হয়নি তার। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর থেকেই দারুণ ফর্মে ফিরেছেন। লিভারপুল ও বায়ার্নের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিয়েছেন, ফাইনালেও গোল করেছেন। পিএসজি টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হবেন তিনি।
তৃতীয় স্থানে আছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। এই মৌসুমে ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ্লেষকদের চোখে মৌসুমের শুরুতে তিনিই ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন। তবে চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলো মিস করতে পারেন। নকআউট পর্বে ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে, আর সেখানে ভালো খেললে পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারেন।
চতুর্থ স্থানে পিএসজির ভিতিনিয়া। ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর পোডিয়ামে জায়গা পেয়েছিলেন, এবার আরও উপরে উঠতে পারেন।
পঞ্চম স্থানে বায়ার্নের মাইকেল ওলিসে। ২৩ গোল ও ৩৩ অ্যাসিস্ট করে রীতিমতো চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে তার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
আর্সেনালের ডেক্লান রাইসের অবস্থান এখন নবম। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন এবং আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে নিয়ে গেছেন। কিন্তু বুদাপেস্টে পিএসজির কাছে সেই ফাইনালে হারের পর তার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন ষষ্ঠ স্থানে। ৪৮ গোল করেও ট্রফি পাননি। তবে বিশ্বকাপে সেরাটা দেওয়ার রেকর্ড আছে তার, তাই শেষ পর্যন্ত রেসে থাকবেন।
এই তালিকায় চমক হিসেবে আছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি। ৩৬ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্ট করে এমএলএস কাপ জিতেছেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাথে যদি ভালো করেন, তাহলে আট বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর ফিরে আসাটাও অসম্ভব নয়।
এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসও ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























