০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুরুর মর্যাদা জাতির অহংকার

গুরুর মর্যাদা জাতির অহংকার।

কবি: জাহিদ হোসেন

ছোটবেলায় শিক্ষক দেখলেই
শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যেত,
ভয়ে পথ বদলে নিতাম কখনো,
তবু বেয়াদবির সাহস হতো না একটুও।
কারণ জানতাম—
শিক্ষকের শাসন রাগ নয়,
ভবিষ্যৎ গড়ার নির্মল অঙ্গীকার।

আমার প্রথম পাঠের আলো
চাঁদপুর পুরান বাজার ২ নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে
মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয়।
জীবনের বোধকে করেছে সমৃদ্ধ
পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ।

আজও বুক ভরে বলতে পারি-
আমার কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকা
একবারও বলতে পারবেন না,
আমি তাঁদের অসম্মান করেছি।
ভয়ে হয়তো কোনোদিন বিদ্যালয়ে যাইনি,
কিন্তু শ্রদ্ধার মাথা কখনো নত হতে দিইনি।

শিক্ষক শুধু অক্ষর শেখান না,
তিনি বিবেকের প্রদীপ জ্বালান।
তিনি মানুষ গড়েন,
স্বপ্ন গড়েন,
একটি জাতির আগামী নির্মাণ করেন।

যে হাতে প্রথম কলম ধরা শিখি,
সেই হাতকে অসম্মান করা মানে
নিজের ভবিষ্যতের শেকড় কেটে ফেলা।

যে শিক্ষার্থী শিক্ষকের মর্যাদা বোঝে না,
সে জ্ঞানের গভীরতা কখনো উপলব্ধি করতে পারে না।
যে পরিবার শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করে না,
সন্তানের চরিত্রের ভিতও একদিন নড়বড়ে হয়ে যায়।

আজ সময় বদলেছে,
কিন্তু কী বদলে যাবে আমাদের মূল্যবোধও?
শিক্ষকের চোখের জল
কোনো সভ্য সমাজের অলংকার হতে পারে না।

শিক্ষকের অপমান মানে
জ্ঞানকে অপমান,
মানবতাকে অপমান,
একটি জাতির ভবিষ্যৎকে অপমান।

অভিভাবকদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান—
সন্তানকে শুধু পরীক্ষায় ভালো করার শিক্ষা দেবেন না,
শেখান কীভাবে মানুষকে সম্মান করতে হয়,
কীভাবে মাথা নত করে কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়।
কারণ ভালো মানুষ ছাড়া
ভালো সমাজ কখনো গড়ে ওঠে না।

মা-বাবা সন্তানের প্রথম শিক্ষক,
আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক তার দ্বিতীয় অভিভাবক।
এই দুই আলোর উৎসকে সম্মান করলেই
আলোকিত হবে পরিবার,
আলোকিত হবে সমাজ,
আলোকিত হবে বাংলাদেশ।

আসুন, আমরা আবার ফিরিয়ে আনি
শ্রদ্ধার সেই সোনালি দিন,
যেখানে শিক্ষক থাকবেন
সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে।

কারণ—
যে জাতি তার শিক্ষককে সম্মান করে,
সেই জাতিই ইতিহাস রচনা করে।
আর যে জাতি শিক্ষকের মর্যাদা ভুলে যায়,
সে জাতির বিবেক একদিন নীরব হয়ে যায়।

আজও শিক্ষকের অপমান দেখলে
হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
তবুও আশা ছাড়ি না—
একদিন আবার শ্রদ্ধা, সৌজন্য আর মানবিকতার আলোয়
ফিরে আসবে শিক্ষকের প্রাপ্য সম্মান,
ফিরে আসবে মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ,
ফিরে আসবে আমাদের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

গুরুর মর্যাদা জাতির অহংকার

আপডেট টাইম : ০২:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

গুরুর মর্যাদা জাতির অহংকার।

কবি: জাহিদ হোসেন

ছোটবেলায় শিক্ষক দেখলেই
শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যেত,
ভয়ে পথ বদলে নিতাম কখনো,
তবু বেয়াদবির সাহস হতো না একটুও।
কারণ জানতাম—
শিক্ষকের শাসন রাগ নয়,
ভবিষ্যৎ গড়ার নির্মল অঙ্গীকার।

আমার প্রথম পাঠের আলো
চাঁদপুর পুরান বাজার ২ নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে
মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয়।
জীবনের বোধকে করেছে সমৃদ্ধ
পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ।

আজও বুক ভরে বলতে পারি-
আমার কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকা
একবারও বলতে পারবেন না,
আমি তাঁদের অসম্মান করেছি।
ভয়ে হয়তো কোনোদিন বিদ্যালয়ে যাইনি,
কিন্তু শ্রদ্ধার মাথা কখনো নত হতে দিইনি।

শিক্ষক শুধু অক্ষর শেখান না,
তিনি বিবেকের প্রদীপ জ্বালান।
তিনি মানুষ গড়েন,
স্বপ্ন গড়েন,
একটি জাতির আগামী নির্মাণ করেন।

যে হাতে প্রথম কলম ধরা শিখি,
সেই হাতকে অসম্মান করা মানে
নিজের ভবিষ্যতের শেকড় কেটে ফেলা।

যে শিক্ষার্থী শিক্ষকের মর্যাদা বোঝে না,
সে জ্ঞানের গভীরতা কখনো উপলব্ধি করতে পারে না।
যে পরিবার শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করে না,
সন্তানের চরিত্রের ভিতও একদিন নড়বড়ে হয়ে যায়।

আজ সময় বদলেছে,
কিন্তু কী বদলে যাবে আমাদের মূল্যবোধও?
শিক্ষকের চোখের জল
কোনো সভ্য সমাজের অলংকার হতে পারে না।

শিক্ষকের অপমান মানে
জ্ঞানকে অপমান,
মানবতাকে অপমান,
একটি জাতির ভবিষ্যৎকে অপমান।

অভিভাবকদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান—
সন্তানকে শুধু পরীক্ষায় ভালো করার শিক্ষা দেবেন না,
শেখান কীভাবে মানুষকে সম্মান করতে হয়,
কীভাবে মাথা নত করে কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়।
কারণ ভালো মানুষ ছাড়া
ভালো সমাজ কখনো গড়ে ওঠে না।

মা-বাবা সন্তানের প্রথম শিক্ষক,
আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক তার দ্বিতীয় অভিভাবক।
এই দুই আলোর উৎসকে সম্মান করলেই
আলোকিত হবে পরিবার,
আলোকিত হবে সমাজ,
আলোকিত হবে বাংলাদেশ।

আসুন, আমরা আবার ফিরিয়ে আনি
শ্রদ্ধার সেই সোনালি দিন,
যেখানে শিক্ষক থাকবেন
সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে।

কারণ—
যে জাতি তার শিক্ষককে সম্মান করে,
সেই জাতিই ইতিহাস রচনা করে।
আর যে জাতি শিক্ষকের মর্যাদা ভুলে যায়,
সে জাতির বিবেক একদিন নীরব হয়ে যায়।

আজও শিক্ষকের অপমান দেখলে
হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
তবুও আশা ছাড়ি না—
একদিন আবার শ্রদ্ধা, সৌজন্য আর মানবিকতার আলোয়
ফিরে আসবে শিক্ষকের প্রাপ্য সম্মান,
ফিরে আসবে মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ,
ফিরে আসবে আমাদের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ।