মাহমুদুর রহমান মনজু, লক্ষীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদরের একাংশ) আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এখানে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে পিছিয়ে নেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও। দুই পক্ষই সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা এলাকা ছাড়েন। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। সীমিত আকারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ কিছু কর্মকাণ্ড চালালেও বড় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন বিএনপি বনাম জামায়াতেই।
রায়পুর উপজেলা ও সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-২ আসন; আর সদর উপজেলার বাকি ১২টি ইউনিয়ন ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ছয় লাখ ৭১ হাজার ৪৯।
এই আসনে বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি—দলের যুগ্ম মহাসচিব এবং দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য। যদিও দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ঘোষণা করেনি, তার সমর্থকদের বিশ্বাস—মনোনয়ন তিনিই পাবেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। ফলে এ্যানি ও রেজাউলের মধ্যে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন স্থানীয় ভোটাররা।
ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা—যিনিই নির্বাচিত হন না কেন, তিনি যেন সদরের পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের লাগামহীন সন্ত্রাস, খুনোখুনি ও অস্ত্রবাজি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি তাদের।
রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকেও দুই প্রার্থী সমান আলোচিত—এ্যানি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন, অন্যদিকে রেজাউল করিম ছিলেন ২০০৯-১০ সালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি। এখন তারা জাতীয় পর্যায়ের নেতা হয়েও নিয়মিত এলাকায় আসছেন, নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, এবং নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন টানতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
আগামী নির্বাচনে তাই লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে এক শক্তিশালী, বৈচিত্র্যময় ও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় স্থানীয়রা।
Reporter Name 

























